ভুয়া সনদে চাকরি নিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক এমপি আউয়াল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়ে একটি কলেজে প্রভাষক পদে নিয়োগ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল (৬৮), তাঁর স্ত্রী লায়লা পারভীন (৬২) এবং ওই কলেজের অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদার (৫৫)-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দুদক জানায়, তাদের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন সম্রাট বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি করা হয়েছে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায়।

প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক পদে লায়লা পারভীনকে নিয়োগ দেন। নিয়োগের সময় তাঁর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না।

দুদক জানায়, এই অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে লায়লা পারভীন ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে মোট তিন লাখ ৯৬ হাজার ৪০৬ টাকা বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন, যা আত্মসাতের শামিল।

আপন লোক দিয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৩ সালে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রভাষক পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক এমপি আউয়াল এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন তাঁর স্ত্রী লায়লা পারভীন। একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর লায়লা পারভীন প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করেন এবং ২৩ ডিসেম্বর তিনি প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।

দুদকের অভিযোগ, লায়লা পারভীন নিজে নিয়োগ কমিটির সদস্য হয়ে নিজের নিয়োগে অংশ নেন এবং স্বামী আউয়ালের প্রভাব খাটিয়ে এই অবৈধ নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়।